• বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:২৮ অপরাহ্ন

ইফতার রাজনীতিতে ব্যস্ত ইসলামি দলগুলো

ডেস্ক রিপোর্ট / ২১ Time View
Update : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫

পবিত্র রমজান মাসে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ প্রধান ইসলামি দলগুলো। ইফতার মাহফিল ঘিরেই বেশি তৎপর এসব রাজনৈতিক দল। মুক্ত পরিবেশে এবারের আয়োজনের পরিধি এবং অংশগ্রহণের হার অনেকে বেড়েছে। ইফতারের পাশাপাশি দল গঠন ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডও চালাচ্ছে বিভিন্ন দল। তবে সব কর্মসূচিতেই আগামী নির্বাচনের একটি আবহ কাজ করছে বলে জানা গেছে।

রোজা শুরু হওয়ার আগেই সারাদেশে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং রমজানের পবিত্রতা রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের দুই অংশসহ বিভিন্ন দল। আর রোজা শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা-উপজেলা থেকে থানা পর্যায়ে এসব মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে রমজান ঘিরে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি তৎপর জামায়াতে ইসলামী। বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকারের বাধাবিঘ্নের কারণে প্রকাশ্যে ইফতার মাহফিলসহ কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এবার মুক্ত পরিবেশে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দলটি। ইফতার ছাড়াও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে জামায়াত। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভও করেছে দলটি।

এবারের রমজানে জামায়াতে ইসলামীর তৎপরতা সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ আমার দেশকে জানান, ইসলামি আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের জন্য রমজান আত্মগঠন বা প্রশিক্ষণের একটি মাস। সেই আদর্শে বিশ্বাসী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী গোটা রমজানজুড়ে আলোচনা সভা ও কোরআন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালাচ্ছে। একইসঙ্গে ইফতার মাহফিল, সেমিনার বা আলোচনা সভার মাধ্যমে সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।

তিনি জানান, কেন্দ্রীয়ভাবে দুটি ইফতার মাহফিল করবে জামায়াত। ৮ মার্চ রাজধানীর ওয়েস্টিনে কূটনীতিকদের সম্মানে এবং ১৫ মার্চ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠিত হবে।

বিগত আওয়ামী সরকারের সময় বাধার কারণে এ ধরনের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হতে পারেনি জানিয়ে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, এবারের ইফতার মাহফিলে ব্যাপক আকারে উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এখন আর গোপন বৈঠকের সেই ভীতি না থাকায় মানুষের মাঝে আগ্রহ ও উদ্দীপনা বেড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম রোজা থেকেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে ইফতার কর্মসূচি চলছে। এরই মধ্যে এতিম, আলেম-ওলামা, জুলাই বিপ্লবে আহত, পঙ্গু, শহীদ পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দলটির আমিরসহ শীর্ষ ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রমজানে বিশেষ তৎপরতা চালাচ্ছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে দলটির সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম আমার দেশকে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত ও শঙ্কামুক্ত ভিন্ন পরিবেশে এবারের রোজায় ইফতার মাহফিল করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এবার বড় ধরনের ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হচ্ছে ৭ মার্চ হোটেল সোনারগাঁয়ে। কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্মানে এই ইফতার অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের প্রতিটি থানায় ইফতার মাহফিল করবে দলটি। সহযোগী সংগঠনগুলোও আলাদা ইফতারের আয়োজন করছে। সারা দেশে জেলা ও থানা শাখার উদ্যোগে গণইফতার আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরে তৃণমূল মানুষের মাঝে ইফতার ও সাহরির খাবার বিতরণ এবং ঈদ পোশাক বিতরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। রোজার আগে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করে দলটি। আগামী নির্বাচনের আগে এবারের রমজানের কর্মসূচিতে ভিন্ন আমেজ বিরাজ করছে বলেও জানান আহমদ আব্দুল কাইয়ুম।

রোজায় সারা দেশে ইফতার মাহফিলের পাশাপাশি কিছু শাখায় দল পুনর্গঠনের কাজ চালাচ্ছে খেলাফত মজলিস। এ প্রসঙ্গে দলটির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল আমার দেশকে জানান, রোজার আগেই স্বাগত জানিয়ে মিছিল করেছে খেলাফত মজলিস। রোজাজুড়ে ঢাকাসহ সারা দেশে ইফতার মাহফিল করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে ৮ মার্চ পল্টনের হোটেল ফারসে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে

তিনি বলেন, এবার কোনো বাধাবিঘ্ন নেই। পরিবেশ খুব ভালো। তাই আগের চেয়ে এবার ইফতার আয়োজনসহ অন্যান্য কর্মসূচিও অনেক বেড়েছে। ইফতার ছাড়াও গরিব-অসহায়দের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই ধরনের তৎপরতার কথা জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমাদ। তিনি বলেন, এবার কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ১৪ মার্চ হোটেল ফারসে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, পেশাজীবী ও কূটনীতিকদের নিয়ে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এবারই প্রথম এ ধরনের বড় আয়োজন করছে দলটি।

তিনি বলেন, রমজানে ঢাকা মহানগর এবং সব জেলা-উপজেলায় আলাদাভাবে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সমাজকল্যাণমূলক কাজ হিসেবে ইফতার ও ঈদসামগ্রী বিতরণ এবং আর্থিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির।

এছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলন, হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামি দল রমজানে ইফতার মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে বলে জানা গেছে।


More News Of This Category
bdit.com.bd